সারাদেশ

বর্ষায় মেহেরপুরে বেড়েছে সাপের উপদ্রব, বিষধর সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম

বর্ষায় মেহেরপুরে বেড়েছে সাপের উপদ্রব, বিষধর সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই মেহেরপুরে বিষধর ও নির্বিষ সাপের উপদ্রব বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, উঠান ও ফসলের মাঠে প্রায় প্রতিদিনই সাপ দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে গাংনী উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে বিষধর সাপের কামড়ে জুই (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কও বেড়েছে।

একই দিন বিকেলে সাহারবাটী নীলের মাঠে জমিতে সার দিতে গিয়ে কৃষক জিয়া উদ্দিনের ওপর একটি সাপ ছোবল মারার চেষ্টা করে। তবে তিনি দ্রুত সরে যাওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান।

সেদিন রাতেই সাহারবাটী দক্ষিণপাড়ায় নুর ইসলামের বাড়িতে একটি সাপ দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা সেটিকে মেরে ফেলেন। এর আগের রাতে একই গ্রামের মুকাদ্দেসের বাড়ির উঠান থেকেও একটি সাপ উদ্ধার করে স্থানীয়রা হত্যা করেন।

সোমবার গাংনী উপজেলার দেবীপুর এলাকায় একটি বাড়ির গেটের সামনে আরও একটি সাপ দেখা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেটিও মেরে ফেলেন। পরপর এসব ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সাহারবাটি গ্রামের বাসিন্দা সুমন আলী বলেন, জুইয়ের মৃত্যুর পর থেকে গ্রামের মানুষ রাতে টর্চলাইট নিয়ে চলাফেরা করছেন এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখছেন। তবুও আতঙ্ক কাটছে না।

একই গ্রামের আবু বক্কর বলেন, আগে মাঝেমধ্যে সাপ দেখা গেলেও এবার কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক বাড়িতে সাপ পাওয়া গেছে, যা মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেবীপুরের বাসিন্দা তামিম হোসেন জানান, তার বাড়ির গেটের সামনে সাপ দেখার পর পরিবারের সবাই আতঙ্কে রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সাপের দেখা মিলছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, এখনও অনেক মানুষ সাপে কাটার পর কবিরাজের ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম দিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

স্থানীয়ভাবে সাপ উদ্ধারের কাজ করা রিয়াজুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে তিনি প্রায় সাড়ে ৩০০টি পদ্মগোখরা সাপ উদ্ধার করেছেন। শুধু গত এক সপ্তাহেই প্রায় ১০০টি সাপ ধরেছেন বলে দাবি করেন তিনি। প্রায় ৩২ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা, রাতে টর্চলাইট ব্যবহার করা এবং খালি পায়ে চলাফেরা না করার পরামর্শ দেন তিনি। সাপ দেখা গেলে নিজে ধরার বা মারার চেষ্টা না করে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, সাপে কাটার পর ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জেলার তিনটি সরকারি হাসপাতালেই অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তাই দ্রুত চিকিৎসা নিলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানান তিনি।