সারাদেশ

পিরোজপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

পিরোজপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
ছবিঃ সংগৃহীত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে বিকাশ সিকদার নামে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের এক যুবক জীবিকার তাগিদে বিদেশে অবস্থান করছেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে তার স্ত্রী পাশের একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ নভেম্বর অভিযুক্ত বিকাশ সিকদার নিজের স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওই নারীকে ভাত রান্নার কথা বলে বাসায় ডেকে নেন। সেখানে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় আপত্তিকর এসএমএস পাঠিয়ে তাকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপের কারণে দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন রাখেন। তবে প্রায় দুই মাস পর তিনি নিজেকে গর্ভবতী বলে সন্দেহ করলে বিষয়টি তার ননদকে জানান। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত বিকাশ সিকদার তাকে ওষুধ খাইয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করেন।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই নারীকে মঠবাড়িয়া ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার ডি অ্যান্ড সি (D&C) করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর গত ২০ মার্চ তিনি মঠবাড়িয়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তাকে মামলা না করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সালিশে রাজি না হয়ে গত ২৮ জুলাই পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচারের দাবিতে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ওই নারী থানায় এসেছিলেন। তবে তার স্বজনরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়ায় তখন মামলা দায়ের করা হয়নি। পরবর্তীতে সমাধান না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলম জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিকাশ সিকদারকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ওই নারী মিথ্যা মামলা করেছেন।”

মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।