সারাদেশ
রাজশাহীতে রাজবাড়ী ভাঙতে গিয়ে বেরিয়ে এলো গোপন সুড়ঙ্গ, রহস্য কী?
রাজশাহীর সিপাইপাড়া এলাকার রাজবাড়ী গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভবনের মাটির নিচে থাকা ইট তোলা হচ্ছে। তবে ইট তুলতে গিয়ে পাওয়া গেছে কয়েকটি সুড়ঙ্গের সন্ধান।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দেখা গেছে, বাড়ি ভাঙার কাজ করার সময় সামনের দিকের দুটি ঘরের মেঝের নিচে পাওয়া যায় ছোট ছোট কয়েকটি সুড়ঙ্গ।
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ জায়গাটির মালিক ছিলেন রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়। দিঘাপতিয়ার রাজবংশের রাজা প্রমথনাথের চার ছেলের একজন ছিলেন রাজা হেমেন্দ্র রায়। ১৯৭২ সালে এ সম্পত্তির আরএস রেকর্ড প্রকাশ হয়। তাতে মালিক হিসেবে নামে আছে সন্দীপের।
ভূমি অফিসে কাগজপত্রে জমির মালিকের ঠিকানা লেখা আছে দিঘাপতিয়া স্টেট, বলিহার, নাটোর। নথিপত্রে দেখা গেছে, ১৯৮১ সালে এই সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি (ভিপি) ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে বলা হয়, ১৯৭৪ সালের পর আর কোনো সম্পত্তি ভিপি ঘোষণা করা যাবে না।
জানা গেছে, বাড়িটি ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের নামে ইজারা ছিল। ইজারা বাতিল করে বাড়িটি অপসারণের জন্য সম্প্রতি বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস মাত্র ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় সবকিছুই এক ব্যক্তির কাছে নিলামে বিক্রি করে। এ বিষয়ে গবেষক তসিকুল ইসলাম রাজা বলেন, ‘বাড়িটির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব আছে। এটি সংরক্ষণ করা উচিত ছিল সরকারের।
নিলামে ভবন ক্রয় করা ব্যক্তির ব্যবস্থাপক মো. অপু বলেন, ‘এই সুড়ঙ্গ প্রাকৃতিক এসি। আগেকার দিনে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা তাদের ঘরের নিচে এ রকম সুড়ঙ্গ রাখতেন। তাতে পানি জমে থাকত। এতে ঘর থাকত ঠাণ্ডা।’
থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘ভবনটির কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব আছে কি না, তা আমার জানা নেই। আগে জানালে আমরা ভাঙতাম না।’
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, বাড়িটির ব্যাপারে তার ধারণা ছিল না। বোয়ালিয়া থানার এসি ল্যান্ড ও সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছেন তিনি।