খেলা
আর্জেন্টিনাকে ‘কমিটির দল’ বলায় রেগে গেলেন লিওনেল স্কালোনি
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে একটি বিতর্ক বারবার সামনে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল অঙ্গনের একটি অংশের দাবি, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পায় দলটি। কেউ কেউ বিদ্রূপ করে আর্জেন্টিনাকে ‘কমিটির দল’ বলেও অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি চলমান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিকে ঘিরে আলোচিত একটি ফাউলের ঘটনার পর সেই বিতর্ক আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তার দল সত্যিই কোনো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে কি না। প্রশ্নটি শুনেই স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেন বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।
জবাবে স্কালোনি বলেন, “এসবের একটাই সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা বন্ধ করা। সোশ্যাল মিডিয়া না দেখলেই এসব ভিত্তিহীন দাবি আর চোখে পড়বে না।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে কেউ কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে যেকোনো কিছু লিখে দিতে পারে, যা মুহূর্তের মধ্যেই বড় বিতর্কে রূপ নেয়। তার মতে, এসব গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণাকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
স্কালোনি বলেন, “আজকাল প্রমাণ ছাড়া যেকোনো কিছু পোস্ট করা হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে অনেক সময় এর কোনো সম্পর্ক থাকে না। তাই আমরা এসব কথায় গুরুত্ব দিই না।”
আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুগ্রহের ফল নয়; বরং পুরো দলের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফল। তার ভাষায়, “আমাদের সাফল্যের পেছনে শুধু লিওনেল মেসি নন, দলের প্রতিটি সদস্যের অবদান রয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, বিশ্লেষক—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অর্জন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক দিক স্বীকার করলেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো দিক রয়েছে, তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে যে কেউ যা খুশি লিখতে পারে এবং তা এক মুহূর্তেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যায়। তাই আমরা এসব বিতর্কে মনোযোগ না দিয়ে মাঠের খেলায় মনোযোগ দিচ্ছি।”
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্কালোনির এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আর্জেন্টিনা শিবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক নয়, বরং নিজেদের পারফরম্যান্স ও মাঠের ফলাফল নিয়েই বেশি মনোযোগী।