খেলা
৯১ বছরের অপেক্ষার অবসান, প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশর
বিশ্বকাপে ৯১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে মিশর। টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দেশটি।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ১৩তম মিনিটে পরিকল্পিত এক আক্রমণ থেকে দলকে এগিয়ে দেন ইমান আশুর। ফ্রি-কিক থেকে মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস বাড়ান আশুরের উদ্দেশে। প্রথম প্রচেষ্টা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় সুযোগে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। ফ্রি-কিক থেকে আসা বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন মোহাম্মদ হানি। এরপর দুই দলই গোলের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের আগে গোলরক্ষক পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট্রিক বিচের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় ম্যাথু রায়ানকে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কাজে আসেনি। মিশরের চার ফুটবলারই সফলভাবে বল জালে পাঠান। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দুই খেলোয়াড় লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন। ফলে পঞ্চম শটের প্রয়োজন না পড়েই চতুর্থ শট শেষে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মিশর।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল মিশরের দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচ। এর আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে একবারই নকআউট পর্বে খেলেছিল তারা। তবে সে সময় পুরো আসরই নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে মিশর। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে সেই ম্যাচ।