খেলা
বেলিংহ্যামের গোল নিয়ে বিতর্ক; বল কি ক্যামেরার তারে লেগেছে? যা জানাল ফিফা
নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। তবে তার একটি গোল ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
গোলের আগে আক্রমণের সূচনালগ্নে বলটি শূন্যে থাকা কোনো তারে লেগেছিল কি না এমন প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিল্যান্ডের একটি গোলকিক থেকে। রিপ্লেতে দেখা যায়, মায়ামির রক গার্ডেন স্টেডিয়ামের ওপরের একটি তারে বল লেগেছে বলে ধারণা করা হয়।
এরপর বলটি গিয়ে পড়ে ইলিয়ট অ্যান্ডারসনের সামনে। তিনি অ্যান্থনি গর্ডনের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করে বল বাড়ান বেলিংহ্যামের দিকে। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ড্রিবল করে পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে জোরালো শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান।
গোল হজমের পরপরই রেফারি ক্লেমেন্ট তুরপিনের কাছে আপত্তি জানান নিল্যান্ড। তবে ভিডিও সহকারী রেফারি হস্তক্ষেপ না করায় গোল বহাল থাকে এবং প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
এ বিষয়ে সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ বলেন, ঘটনাটি ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় আসা উচিত ছিল। তার মতে, গোলের আগে বল যদি ক্যামেরার তারে স্পর্শ করে, তাহলে তা পর্যালোচনার আওতায় পড়ে এবং সে ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা যেত।
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, বল যদি স্পাইডারক্যামে আঘাত করে, তাহলে সেটিকে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরা হয়। সেক্ষেত্রে খেলা থামিয়ে ড্রপ বলের মাধ্যমে পুনরায় শুরু করার বিধান রয়েছে। তবে রেফারি ঘটনাটি যাচাই করার জন্য খেলা থামাননি।
পরে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে ফিফা জানায়, গোলের আগে বলের গতিপথে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তির সেন্সরেও এমন কোনো সংকেত ধরা পড়েনি, যা থেকে বোঝা যায় বলটি ওপরের তারে লেগেছিল।
এদিকে বিতর্ক ছাপিয়ে বেলিংহ্যামের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলাররা। গ্যারি নেভিল তাকে অসাধারণ প্রতিভা বলে উল্লেখ করেন। আর ইয়ান রাইট তার প্রথম স্পর্শ ও বল নিয়ন্ত্রণের প্রশংসা করে বলেন, ওই নিয়ন্ত্রণই তাকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।