খেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে লাল কার্ড বিতর্ক, তোপের মুখে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে লাল কার্ড বিতর্ক, তোপের মুখে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দলের (ইউএসএমএনটি) এক বিতর্কিত লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। তবে নাটকীয়ভাবে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে তাকে খেলার অনুমতি দেয়।

এই সিদ্ধান্তের পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘কোনো ফাউল নয়’ এবং ‘দুই দুর্দান্ত অ্যাথলেটের স্বাভাবিক সংঘর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফাকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফিফা দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি তাদের শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে এবং এতে ইনফান্তিনোর কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংস্থা ‘ফেয়ারস্কয়ার’ জানিয়েছে, ফিফা সভাপতির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবে। সংস্থাটির দাবি, ইনফান্তিনো আইনবহির্ভূতভাবে একক ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।

এদিকে ইউরোপের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের ভাষায়, এটি ‘বিচারের নামে প্রহসন’। তারা পুরো ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও। তাদের মতে, এটি শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়; বরং ফুটবলের নৈতিকতা ও ফেয়ার প্লের মৌলিক নীতির ওপর আঘাত। সংস্থাটি জানিয়েছে, খেলাটির স্বচ্ছতা রক্ষায় তারা বিষয়টি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে, তবুও এই বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। কারণ বিষয়টি এখন আর কেবল একজন খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার প্রশ্নে বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত না হলেও, ‘ট্রাম্পের ফোনকলের পরই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়েছে’—এমন ধারণাই ফিফার দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।

সূত্র: মার্কা