খেলা
এমবাপেদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, সমালোচনার মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের মহারণের আগে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি উত্তাপ ছড়িয়েছে মাঠের বাইরেও। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়। ফ্রান্সের জাতীয় দলে ‘কোনো ফরাসি খেলোয়াড় নেই’—এমন মন্তব্য করে তিনি স্পেন ও ফ্রান্স—উভয় দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল ডিবেট-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রাজয় এই মন্তব্য করেন। এরপরই তার বক্তব্যকে ‘বিদেশি-বিদ্বেষী’ (জেনোফোবিক) বলে আখ্যা দেন স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সানচেজ লেখেন, ‘এখনও এমন মানুষ আছেন, যারা পদবি, জন্মস্থান বা গায়ের রঙ দিয়ে নাগরিকত্ব বিচার করেন। অথচ একটি দেশের প্রতি ভালোবাসা ও সেই দেশের জন্য অবদান রাখার ইচ্ছাই প্রকৃত পরিচয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্পেন তাদেরই, যারা এই দেশকে ভালোবাসে এবং এর জন্য কাজ করে। তাদের নয়, যারা বিদেশি-বিদ্বেষী মন্তব্য করে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করে।’
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তেও রাজয়ের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তাকে ‘ফ্রাঙ্কো-পরবর্তী যুগের নির্বোধ’ বলে মন্তব্য করেন।
রাজয়ের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনও। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফ্যাবিয়েন রুসেল রাজয়ের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের মানুষ ঘৃণাবাদী বক্তব্য ছড়ানো থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারে না।’
ফ্রান্সের বৈষম্যবিরোধী মন্ত্রী অরোর বার্গে বলেন, ‘এখন সময় এসেছে এসব বন্ধ করার। ফুটবলকে ফুটবলই থাকতে দিন। এখানে একজন খেলোয়াড়কে তার প্রতিভা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত, অন্য কোনো পরিচয়ে নয়।’
সমাজতান্ত্রিক নেতা অলিভিয়ের ফোরও বলেন, ‘ফ্রান্সের কোনো নির্দিষ্ট গায়ের রঙ বা ধর্ম নেই।’
এদিকে মাদ্রিদে অবস্থিত ফ্রান্স দূতাবাসও এক্সে এক পোস্টে জানায়, ‘ফরাসি দলের সব খেলোয়াড়ই ফরাসি। ২৬ জনের মধ্যে ২৩ জন ফ্রান্সে জন্মেছেন। বাকি তিনজন বিদেশে জন্ম নিলেও তারাও ফরাসি নাগরিক।’
ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো রাজয়ের মন্তব্যকে ‘অসহনীয় বর্ণবাদের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে রাজয়ের এই মন্তব্য নতুন করে বর্ণবাদ, নাগরিকত্ব ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।