খেলা

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা 


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা 
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মানেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। সেই উন্মাদনার প্রভাব পড়েছে টিকিটের বাজারেও। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দাম এবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

আগামী রবিবার নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনালকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম TickPick–এর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচটির টিকিটের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩২৭ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। এটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত যেকোনো ক্রীড়া ইভেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গড় টিকিটমূল্য।

বর্তমানে ফাইনালের সবচেয়ে কম দামের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪৩ ডলারে (প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা)। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার আগে এই টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার। দুই ফাইনালিস্ট নিশ্চিত হওয়ার পর দাম কিছুটা কমেছে।

অন্যদিকে, সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিকিটের দাম পৌঁছেছে ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১১৫এ সেকশনের দুটি আসনের টিকিট এই দামে বিক্রি হয়েছে। ফলে দুটি টিকিটের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯৫৮ ডলার।

TickPick–এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল। এরপর রয়েছে ২০২৪ সালের সুপার বোল এলভিআইআইআই (গড় মূল্য ৯,৪১১ ডলার), ২০২১ সালের সুপার বোল এলভি (৭,৩১৩ ডলার), ২০২০ সালের সুপার বোল এলআইভি (৬,৫৪৬ ডলার) এবং ২০২৬ এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ (৬,৩০৮ ডলার)।

এদিকে, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯০০ ডলারে। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার পর ওই ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৩০০ ডলার কমে গেছে।

টিকিট বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম SeatPick–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরে পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় টিকিটের গড় মূল্য ছিল ১ হাজার ৬২২ ডলার। সেমিফাইনাল পর্বে এসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৬২ ডলারে।

তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে টিকিটের দাম একটানা বাড়েনি। পুনর্বিক্রয় (রিসেল) বাজারে কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেও গেছে। বিশেষ করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর স্পেন-বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের মূল্য প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

প্রাথমিক মূল্য কত ছিল?

ফিফা প্রথম ধাপে টিকিট বিক্রির সময় বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার। পুনর্বিক্রয় বাজারের মূল্য বাদ দিলে এটিই ছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্ধারিত টিকিট।

তবে টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল। ফিফা একসঙ্গে সব টিকিট বাজারে ছাড়েনি; বরং টুর্নামেন্ট চলাকালেও ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডায়নামিক প্রাইসিং ব্যবস্থার কারণে চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম অনেক ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

এ কারণে অনেক সমর্থকের অভিযোগ, ২০২৬ বিশ্বকাপ সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ধনীদের টুর্নামেন্টে পরিণত হয়েছে। সমালোচনার মুখে ফিফা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হবে।