খেলা

ইয়ামালের সাফল্যের নেপথ্যে এক মুসলিম নারীর অদম্য সংগ্রাম 


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ এএম

ইয়ামালের সাফল্যের নেপথ্যে এক মুসলিম নারীর অদম্য সংগ্রাম 
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের এই তরুণ উইঙ্গারের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক অনুপ্রেরণাদায়ী সংগ্রামের গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তার পৈতৃক দাদি ফাতিমা রোমানি। নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে একা মরক্কো থেকে স্পেনে পাড়ি দেওয়া এই মুসলিম নারীর আত্মত্যাগই ইয়ামালের স্বপ্নপূরণের ভিত্তি গড়ে দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বহু বছর আগে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়াই উন্নত জীবনের আশায় মরক্কো থেকে স্পেনে যান ফাতিমা রোমানি। প্রথমে আলহেসিরাস ও গ্রানাদায় কিছুদিন কাটানোর পর তিনি কাতালুনিয়ার মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকায় স্থায়ী হন। সেখানে অত্যন্ত কষ্টের জীবনযাপন করেও তিনি একাধিক শিফটে কাজ করে অর্থ সঞ্চয় করেন, যাতে মরক্কোতে থাকা সন্তানদের—যাদের মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউইও ছিলেন—স্পেনে এনে পরিবারের পুনর্মিলন ঘটাতে পারেন।

ইয়ামালের শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠেন ফাতিমা। রোকাফোন্দার কঠিন সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি নাতিকে আগলে রাখেন, মানসিক শক্তি জোগান এবং ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে সবসময় উৎসাহ দেন। তার এই ত্যাগ ও ভালোবাসাই ইয়ামালের ক্যারিয়ারের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জনের পরও ইয়ামাল নিজের শিকড় ভুলে যাননি। গোল উদযাপনের সময় আঙুল দিয়ে '৩০৪' দেখানোর মাধ্যমে তিনি রোকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড ০৮৩০৪-এর প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেন। এটি তার বেড়ে ওঠার জায়গা এবং দাদির সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।

ইয়ামাল বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ট্রফি জয়ের চেয়েও তার কাছে সবচেয়ে বড় সুখ হলো বাবা, মা ও দাদিকে ভালো রাখা। ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে তিনি রোকাফোন্দাতেই দাদি ফাতিমার জন্য একটি বাড়ি কিনে দিয়েছেন। আজও সেখানেই বসবাস করছেন এই সংগ্রামী নারী, যাঁর আত্মত্যাগ ও অদম্য সাহসের গল্প বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র লামিন ইয়ামালের সাফল্যের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।