খেলা
বিশ্বজয়ী ইয়ামালের সাফল্যের নেপথ্যে দাদির আত্মত্যাগ
বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক তারকার জন্ম হয়েছে, তবে তাদের মধ্যেও আলাদা উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এই বিস্ময়বালক নিজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে মুগ্ধ করেছেন ফুটবলপ্রেমীদের। তবে সাফল্যের চূড়ায় উঠেও তিনি ভুলে যাননি জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মানুষগুলোর কথা—বিশেষ করে তার দাদি ফাতিমা রোমানিকে।
ইয়ামালের শৈশব মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র তিন বছর বয়সে তার বাবা মুনির নাসরাউই ও মা শিলা ইবানার বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর স্পেনের মাতারোর রোকাফোন্দা এলাকার সীমিত সামর্থ্যের জীবনে মায়ের পাশাপাশি দাদিই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। অর্থকষ্ট, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামের মধ্যেও দাদি তাকে বড় করেছেন স্নেহ, শাসন ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষায়।
মরক্কো ছেড়ে নব্বইয়ের দশকে স্পেনে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন ফাতিমা রোমানি। নিজের কষ্টের কথা ভুলে নাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেই কাটিয়েছেন জীবনের বড় একটি সময়। ইয়ামালের মধ্যে বিনয়, ধৈর্য ও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতার যে গুণগুলো আজও দেখা যায়, তার পেছনে দাদির অবদানই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন ঘনিষ্ঠরা।
ইয়ামালের নামের পেছনেও রয়েছে এক আবেগঘন গল্প। শৈশবে তার পরিবারকে কঠিন সময়ে সহায়তা করেছিলেন দুই পারিবারিক বন্ধু—লামিনে ও ইয়ামাল। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই নবজাতকের নাম রাখা হয় লামিনে ইয়ামাল।
বিশ্বকাপ জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে ফাতিমা রোমানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "আমি ভীষণ খুশি। স্পেনকে ধন্যবাদ, সবাইকে ধন্যবাদ। লামিনে ঘরে ফিরলে ওর জন্য আমার হাতে তৈরি মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘আরফিসউহ’ রান্না করব। ও যা খেতে চাইবে, তাই রান্না করে খাওয়াব। আমার আনন্দের কোনো সীমা নেই।"
বিশ্বকাপের ট্রফি, ব্যক্তিগত সাফল্য কিংবা বিশ্বজোড়া খ্যাতি—সবকিছুর ঊর্ধ্বে ইয়ামালের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান তার পরিবারের ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তার মা ও দাদি। কারণ, আজকের বিশ্বজয়ী ইয়ামালের গল্পে দাদির আত্মত্যাগ শুধু একটি অধ্যায় নয়, বরং পুরো গল্পের ভিত্তি।