বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি
মঙ্গল গ্রহে প্রথমবার বজ্রপাত শনাক্তের দাবি নাসার
নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বা বজ্রপাত শনাক্তের সম্ভাবনার তথ্য দিয়েছে। রোভার থেকে সংগৃহীত অডিও ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ডেটা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। যদি বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তাহলে পৃথিবী, বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের পর মঙ্গলও সেই তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে বায়ুমণ্ডলীয় বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ সক্রিয়।
২০২১ সালে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করা পারসিভিয়ারেন্স রোভার মূলত জীবনের চিহ্ন অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়েছিল। চার বছর ধরে রোভারটি ওই অঞ্চলে গবেষণা চালাচ্ছে। এর সুপারক্যাম যন্ত্রে ধরা পড়েছে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক স্রোতের সংকেত, যা ‘মিনি লাইটনিং’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ফ্রান্সের গবেষকরা মোট ২৮ ঘণ্টা রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করেছেন। দেখা গেছে, এই বৈদ্যুতিক স্রোত সাধারণত ধুলোঝড়ের সময় বেশি সক্রিয় থাকে। তবে বিজ্ঞানীদের একাংশ এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নেচার সাময়িকীতে কণাপদার্থবিদ ড. ড্যানিয়েল প্রিচার্ড লিখেছেন, শব্দ-ভিত্তিক প্রমাণ যথেষ্ট হলেও বৈদ্যুতিক স্রোত দৃশ্যমানভাবে দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলবে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মঙ্গলে অদ্ভুত দাগযুক্ত কিছু শিলা পাওয়া যায়, যা বিজ্ঞানীরা ‘লেপার্ড স্পট’ ও ‘পপি সিডস’ নামে উল্লেখ করেছেন। এসব শিলায় এমন খনিজ রয়েছে, যা জীবাণু-সম্পর্কিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল হতে পারে, যদিও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায়ও তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে মঙ্গল একটি ঠান্ডা ও শুষ্ক মরুভূমি গ্রহ। তবে অতীতে সেখানে ঘন বায়ুমণ্ডল ও তরল পানি ছিল—যা একসময় প্রাণের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এই কারণেই জেজেরো ক্রেটারকে পারসিভিয়ারেন্স মিশনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ শনাক্তের সম্ভাবনা ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তাহলে গ্রহটির বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু ও সম্ভাব্য অতীত জীবনের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। আরও সংবেদনশীল যন্ত্র ও বিশ্লেষণ পাঠালে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।