পর্যটন

তিন মাস পর উন্মুক্ত সুন্দরবন, খুশি জেলে ও দর্শনার্থীরা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৬ এএম

তিন মাস পর উন্মুক্ত সুন্দরবন, খুশি জেলে ও দর্শনার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ তিন মাস নিষেধাজ্ঞার পর আবারও উন্মুক্ত হলো বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে দর্শনার্থী ও বনজীবীদের জন্য বনের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তবে প্রথম দিন পর্যটকদের ভিড় আশানুরূপ ছিল না। কেবল ২৩৭ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন করমজল পর্যটন কেন্দ্রে।

বরিশাল থেকে আসা দর্শনার্থী আহসান হাবীব বলেন, “অনেক দিন পর সুন্দরবনে এলাম। বানর, হরিণ ও কুমিরসহ নানা প্রাণী দেখে দারুণ লাগছে।” আর নোয়াখালী থেকে আসা মো. সরোয়ার জানান, তিনি অনেকদিন ধরেই সুন্দরবনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু বন বন্ধ থাকায় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। অবশেষে উন্মুক্ত হওয়ায় রোববার থেকেই মোংলায় অবস্থান করে সোমবার সকালেই প্রবেশ করেছেন তিনি।

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য বন বিভাগ নতুনভাবে সবকিছু সাজিয়েছে। ফুটট্রেইল, ঝুলন্ত সেতু, ওয়াচ টাওয়ার, হরিণ ও কুমিরের শেড সংস্কার করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

অন্যদিকে, একই দিনে হাজারো জেলে পাশ পারমিট নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বনে প্রবেশ করেছেন। দীর্ঘ তিন মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা আশানুরূপ মাছ পাবেন বলে আশা করছেন। শরণখোলা থেকে আসা জেলে মহিদুল ইসলাম বলেন, “তিন মাস বন বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে দিন কেটেছে। আজ আবার বনে যাচ্ছি। আশা করছি ভালো মাছ পাব।”

সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, প্রথম দিনে ২৫০টি নৌকায় পাস পারমিট দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নৌকায় দুই থেকে তিনজন জেলে বনে প্রবেশ করেছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব বলেন, জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা পরিবেশের ক্ষতি না করে বা কোনো অপরাধে জড়িত না হয়। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য প্রতিটি নৌকায় স্থানীয় স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে।

বন উন্মুক্ত হওয়ায় আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরতে শুরু করেছে সুন্দরবন। দর্শনার্থী ও জেলেদের পদচারণায় জমে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদভাণ্ডার।