রাজধানী
নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্নস্থানে টহল জোরদার
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীজুড়ে নাশকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা জোরদার করেছে।
গত কয়েকদিন ধরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাস-ট্রেন জ্বালানোর মতো ঘটনা ঘটেছে; ধোলাইপাড়, মিরপুর ও তেজগাঁও এ ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত এলাকাগুলোর মধ্যে পড়ে। এসব নিদারুণ পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিজিবি ও সেনাবাহিনীকেও টহল ও নিরাপত্তা কাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার সাজা-অগ্রহণের দিনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার-বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মিরপুর, শান্তিনগর, মৌচাক, কারওয়ান বাজার ও টিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর শাহানায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তেজগাঁওয়ে একটি পরিত্যক্ত ট্রেন কোচে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬টি পেট্রোল বোমা এবং ৪টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
নাশকতার ঘটনায় বাসে অগ্নিসংযোগ হলেও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে—জানায় দায়িত্বরত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ বলেও জানিয়েছেন তারা। শহরব্যাপী ভাঙচুর কিংবা বৃহৎ ধরনের গৃহীত হামলার ঘটনা এড়াতে সিটি কর্পোরেশন, ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তৎপর রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা রাতভর ক্যাম্পাসে ও শহরে সতর্ক অবস্থায় থাকবে বলে জানিয়েছে ডাকসু। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও অন্যান্য নেতারা জানান—জুলাইয়ে শহীদদের লক্ষ্য ও দাবির কাছে অনড় থেকে তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেলো এবং ভবিষ্যতেও সতর্ক থাকবে। তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি স্পষ্ট। এছাড়া ছাত্র সংগঠনগুলো দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার অনুরোধ করছে।