রাজধানী

রাজধানীতে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানো হবে, যার মধ্যে মোহাম্মদপুরেই ৭০০


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

রাজধানীতে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানো হবে, যার মধ্যে মোহাম্মদপুরেই ৭০০
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে নজরদারি জোরদার করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো শহরে প্রায় ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যার মধ্যে শুধু মোহাম্মদপুর এলাকাতেই বসানো হবে প্রায় ৭০০টি ক্যামেরা। অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বছিলা এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের সময় ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ালে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নতুন ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের হার বেশি থাকায় মোহাম্মদপুরকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। পুলিশের কাছে থাকা অপরাধীদের একটি তালিকা বিশ্লেষণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, গুলশান-বনানী এলাকায় আগে থেকেই বিস্তৃত সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক থাকার কারণে সেখানে অপরাধ কমেছে। সেই মডেল অনুসরণ করে মোহাম্মদপুরেও নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাসা ও প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিলে পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক ও ম্যানেজারদের তথ্য এবং বাসাবাড়ির ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ছবি প্রকাশের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে ডিএমপি জানায়, সেখানে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রায়েরবাজার, বেড়িবাঁধ ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোরিকশা গ্যারেজ ও ভাঙারি দোকানকে কেন্দ্র করে চুরি ও ছিনতাই বাড়ছে। রাতে সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনাও বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিনে বের হয়ে অপরাধীরা পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সার্বিকভাবে, রাজধানীতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।