শিক্ষা
বরগুনায় স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম-ফাঙ্গাসযুক্ত রুটি!
বরগুনার তালতলী উপজেলায় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিয়মের অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতের লক্ষ্যে চালু হওয়া স্কুল ফিডিংয় কর্মসূচিতে পচা ডিম, ফাঙ্গাসযুক্ত রুটি ও কাঁচা কলা সরবরাহের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া ক্ষোভ ঝেড়ে বলে, “আমরা তো সরকারের কাছে পচা খাবার চাইনি। ভালো খাবার দেওয়ার কথা, তাহলে এমন হচ্ছে কেন? ডিম ও রুটিতে দুর্গন্ধ থাকায় খেতে না পেরে ফেলে দিতে হয়েছে।”
এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তালতলীর ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি ডিম, রুটি, কলা, দুধ ও বিস্কুট দেওয়ার কথা। এর মধ্যে ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ রয়েছে, একসঙ্গে দুই দিনের রুটি সরবরাহ করায় সংরক্ষণের অভাবে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রুটিতে ফাঙ্গাস ধরছে। একইভাবে, সিদ্ধ করার পর ডিম কাটলে দেখা যাচ্ছে ভেতরে পচন, যা খাওয়ার অনুপযোগী। কাঁচা কলাও শিশুদের জন্য অখাদ্য হয়ে পড়ছে।
গাবতলী রফিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “ডিম সিদ্ধ করার সময় অনেক ক্ষেত্রে বোঝা যায় না, কিন্তু খাওয়ার সময় দুর্গন্ধ বের হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। পুষ্টি পাওয়ার বদলে তারা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।”
একাধিক অভিভাবক জানান, সন্তানরা স্কুল থেকে ফিরে খাবার না খেয়ে আসছে। এতে তাদের পুষ্টি ঘাটতির পাশাপাশি কর্মসূচির উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করছে।
খাবার সরবরাহে যুক্ত স্থানীয় পরিবেশক মো. ইউনুস মিয়া বলেন, “আমি যেভাবে পণ্য পাই, সেভাবেই স্কুলে পৌঁছে দিই। তবে শিক্ষকদের কাছ থেকে পচা ডিম ও রুটির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি।”
এ বিষয়ে ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র প্রকল্প পরিচালক মো. খলিলুর রহমান দাবি করেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহ দেখছি। কিছু অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। আগামীতে মান যাচাই আরও কঠোর করা হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে।”
তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। কোনো অবস্থাতেই পচা বা নিম্নমানের খাবার শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে না। প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে খাবার গ্রহণের আগে মান যাচাই করতে। পাশাপাশি এ বিষয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এবং তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”