সারাবিশ্ব

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়াল


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪০ এএম

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়াল
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলমান এই হামলায় প্রতিদিনই নতুন করে লাশ যোগ হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে সেখানে কোনো জায়গাই এখন আর নিরাপদ নেই। হামলার কারণে খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন পরিবারের জন্য খাদ্যের সন্ধানে বের হওয়া মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিকে দখলের লক্ষ্যে ভয়াবহ আক্রমণ চালাচ্ছে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত ৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪ জন খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন। শহরের সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় সাংবাদিক ইসলাম আল-কউমিসহ অন্তত তিনজন প্রাণ হারান।

আলজাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানিয়েছেন, গাজার পূর্বাঞ্চলে টানা বিমান হামলা, ভারী কামান ও ড্রোন ব্যবহার করে আবাসিক এলাকাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন শিশু। এ নিয়ে দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৩, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজায় পাঁচ বছরের নিচে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। খাদ্য, পানি ও ওষুধ সরবরাহে বাধা থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে।

এদিকে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে হামাস। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গাজায় আটক অর্ধেক ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি পাবে এবং ইসরায়েলি কারাগারে আটক কিছু সংখ্যক ফিলিস্তিনিও মুক্তি পাবে। তবে ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, এর আগেও বহুবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

জাতিসংঘ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এজন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে। ইতিমধ্যেই গাজায় ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমে গেছে, যা একত্র করলে মিশরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসাবশেষ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) হিসাব অনুযায়ী, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত, এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং এক-তৃতীয়াংশ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন হবে।