সারাবিশ্ব

গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৪ পিএম

গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিবের সামরিক বাহিনী। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওই রকেট ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নাহাল ওজ এলাকায় আঘাত হানে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, গাজা শহর থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। সেটিকে প্রতিহত করার চেষ্টা হয়েছে এবং এর ফলাফল যাচাই-বাছাই চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এ হামলার সময় গাজার আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দক্ষিণে পালিয়ে যাচ্ছে।

২৬ বছর বয়সী গাজার বাসিন্দা সাজা আল-খারুবি এএফপিকে বলেন, “বিমান, ট্যাংক আর ড্রোন থেকে একটানা গোলাবর্ষণ হচ্ছে। কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই। আমাদের যাওয়ার মতো জায়গা বা অর্থ কিছুই নেই। পরিস্থিতি চরমভাবে ভয়াবহ।”

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজার ভেতরে স্থল ও আকাশপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। হামাসকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্যমতে, ইতোমধ্যে গাজা নগরী থেকে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ঘর ছেড়েছেন। জাতিসংঘ বলছে, আগস্ট পর্যন্ত গাজায় জনসংখ্যা ছিল প্রায় এক কোটি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমাদের যুদ্ধ থামবে না যতক্ষণ না সব লক্ষ্য অর্জিত হয় হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল, অপহৃতদের মুক্ত এবং গাজাকে ইসরায়েলের জন্য স্থায়ী হুমকি থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ হামলা চালায়। ওই হামলায় ১,২১৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। হামলার সময় ২৫১ জনকে গাজায় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ৪৭ জন এখনও গাজায় বন্দি রয়েছেন, এবং অন্তত ২৫ জন জিম্মি মারা গেছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ হাজার ৩৪৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর বড় একটি অংশই নারী ও শিশুসহ সাধারণ নাগরিক।