সারাবিশ্ব

ইরানি মিসাইল হামলায় কাঁপছে উপসাগরীয় অঞ্চল, অনিশ্চয়তার পথে বিশ্ব


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

ইরানি মিসাইল হামলায় কাঁপছে উপসাগরীয় অঞ্চল, অনিশ্চয়তার পথে বিশ্ব
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এবার ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। ক্রমবর্ধমান হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা।

সোমবার ভোরে ইরানের নজিরবিহীন মিসাইল ও ড্রোন হামলায় কেঁপে ওঠে বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। এই হামলার পর বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বাপকো তাদের শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। সিত্রা দ্বীপে অবস্থিত শোধনাগারটি ইরানি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

কাতারের রাজধানী দোহা থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গভীর রাতে সেখানে অন্তত ১২ থেকে ১৩টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কাতার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছিল। কিন্তু ইরান সরাসরি তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলাকে ‘নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্পাঞ্চলেও ড্রোন ভূপাতিত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে ইরানের ভেতরেও পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরপরই ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন নেতৃত্ব এলেও তারা ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ পড়বেন না। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল করার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি একটি ‘সামান্য ত্যাগ’। তিনি আরও জানান, এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে সেই সিদ্ধান্ত তিনি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে নেবেন।

লেবানন সীমান্তেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে পূর্ব লেবাননে সরাসরি লড়াই চলছে। সোমবার অন্তত ১৫টি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার সিরিয়া সীমান্ত অতিক্রম করে লেবাননে সেনা নামিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বৈরুতের একটি হোটেলে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের কমান্ডারদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

যুদ্ধের ১১ দিনে ইরানে অন্তত ১ হাজার ২৫৫ জন এবং লেবাননে ৩৯০ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের ভেতরেও ইরানি মিসাইল হামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়-পুরো বিশ্বের অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। 

সূত্র: আল জাজিরা।