সারাবিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক চাপে পিছু হটাতে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক চাপে পিছু হটাতে দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুদ্ধের দশম দিনে এসে দেশটি জানিয়েছে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করতে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রাখা হতে পারে। ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সোমবার তেহরানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা কামাল খারাজি বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ এখন কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাতের’ মাধ্যমেই শেষ করা সম্ভব এবং বর্তমানে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

খারাজি জানান, অর্থনৈতিক চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যাতে অন্য দেশগুলো এই সংঘাত থামাতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করাই এখন তেহরানের প্রধান কৌশল।

ইরানের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় আরব দেশসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখে। কামাল খারাজি বলেন, “এই যুদ্ধ অন্যদের ওপরও ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে—তা মুদ্রাস্ফীতি হোক কিংবা জ্বালানির ঘাটতি। যুদ্ধ চলতে থাকলে এই চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যদের হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নিতে বাধ্য হবে বলে তেহরান মনে করছে।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে ইরান, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারেও। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।