সারাবিশ্ব

‘গাজার কসাই’ নেতানিয়াহুকে আতিথ্য, আমিরাতকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে: ইরান


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

‘গাজার কসাই’ নেতানিয়াহুকে আতিথ্য, আমিরাতকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে: ইরান
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন আবুধাবি সফরকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেছেন, নেতানিয়াহুকে আতিথ্য দেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

রোববার গোপনে আবুধাবি সফর করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরের খবর প্রথমে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও পরে ২৮ সেপ্টেম্বর আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি (WAM) বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তা আরও জোরদার ও উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর এই সফরের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহসেন রেজাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার পরও আমিরাত যেভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি, একইভাবে ‘গাজার কসাই’কে আতিথ্য দেওয়ার ফলও দেশটির জন্য সুখকর হবে না।

রেজাই আমিরাতের প্রতি আরও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, অতীতের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিতে হবে, যুদ্ধ উসকে দেওয়ার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে এবং পারস্য উপসাগরে ইরানের তিনটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে ‘ভিত্তিহীন দাবি’ তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক, পারস্য উপসাগরে ইরানের তিনটি দ্বীপ-আবু মুসা, গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনব-নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এবং সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগ।

অন্যদিকে, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর থেকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশ যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ আবুধাবি সফরও দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে আবুধাবিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর গোপন সফর এবং এর পর ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।