সারাবিশ্ব

রিমান্ড শেষে অসুস্থ, আইসিইউতে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১৯ পিএম

রিমান্ড শেষে অসুস্থ, আইসিইউতে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে
শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে তাকে কলম্বোর জাতীয় হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে কলম্বোর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড চলাকালে রাতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালের উপ-মহাপরিচালক রুকশান বেল্লানা এএফপিকে বলেন, “রিমান্ডে থাকাকালীন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে তীব্র পানিশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে তাঁকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।” তিনি জানান, বর্তমানে বিক্রমাসিংহের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় বিক্রমাসিংহেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের গ্রেপ্তারকে ঘিরে শ্রীলঙ্কায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বিরোধী দলগুলোর দাবি, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিউ ম্যাগাজিন কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্টকে দেখতে গিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য ও সমাজি জনা বালাওয়েগায়ার (এসজেবি) নেতা নালিন বান্দারা। তিনি বলেন, “সাবেক প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছেন— বর্তমান সরকারের দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একত্রিত হয়ে লড়তে হবে।”

গ্রেপ্তারের পর ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) দাবি করেছে, বিক্রমাসিংহের জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় ফেরার আশঙ্কাতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটির মহাসচিব থালাথা আতুকোরালা বলেন, “সরকার তাকে ভয় পাচ্ছে। তাই পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে তিনি ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং কিউবার হাভানায় অনুষ্ঠিত জি-৭৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে লন্ডনে যান তিনি, যেখানে তার স্ত্রী মৈত্রি বিক্রমাসিংহেকে উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক খেতাব প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।

পুলিশের দাবি, এই সফরে সরকারি কোষাগার থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ রুপি (প্রায় ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার) ব্যয় করা হয়।

যদিও বিক্রমাসিংহে বরাবরই দাবি করে আসছেন, স্ত্রীর সফর ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেছেন এবং কোনো রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করেননি।

এই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের তিনগুণ জরিমানা হতে পারে।

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়লে, সেই সংকটকালেই দায়িত্ব নেন বিক্রমাসিংহে। তার নেতৃত্বেই দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের উদ্ধার প্যাকেজ আদায় করে। অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল করতে কর বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেন তিনি।

তবে ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে হেরে যান বামপন্থী অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মাঠে অপেক্ষাকৃত নীরব ছিলেন বিক্রমাসিংহে।

শ্রীলঙ্কার বর্তমান বামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গতি এনেছে। ইতোমধ্যে সাবেক দুই মন্ত্রীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা চলছে।