সারাবিশ্ব

শ্রীলংকা-বাংলাদেশ-নেপাল : এরপর ভারত? (ভিডিও)


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৫২ পিএম

শ্রীলংকা-বাংলাদেশ-নেপাল : এরপর ভারত? (ভিডিও)
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি সাতজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, পরিবারের কয়েকজনকে নিয়ে পালিয়েছেন হেলিকপ্টারে করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হয় ভারত, না হলে দুবাইয়ে আশ্রয় নেবেন। কেপি শর্মা অলির বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। মন্ত্রীদের বাড়ি জ্বলছে।

নেপালি কংগ্রেসের দপ্তরে আগুন লাগানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো নেপালের রাজধানী সম্পূর্ণ ছাত্র-যুবাদের দখলে। 

এই বিক্ষোভ আরেকটা নতুন আলোচনাকে উসকে দিচ্ছে। শ্রীলংকায় এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় বছরের পর বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত একটা পারিবারিক রাজবংশের মতো শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশে এক সীমিত কোটা সংস্কার আন্দোলন একটা বিশাল গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়ে সরকার পরিবর্তন ঘটাল। প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে বেঁচেছেন, আর এখন নেপালে সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একদিনের মধ্যে বেকারত্ব-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটা বৃহত্তর আন্দোলন । কাজেই খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এই গণবিক্ষোভের ঢেউ কি এবার ভারতেও আছড়ে পড়বে? 
শ্রীলংকার বিপর্যয় থেকে শুরু করা যাক, যেখানে অর্থনীতি ছিল একমাত্র কারণ। আগে শ্রীলংকায় অনেক রকমের জটিলতা ছিল; এবারে যা হয়েছে তার কারণ অর্থনীতি। যখন মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র ঘাটতি হয়, নিয়ন্ত্রণহীন মুদ্রাস্ফীতি হয়, তখন একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে; তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হবে, আগুন লাগবে। 
সেই স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে এবং তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

এবারে আসুন বাংলাদেশের পরিবর্তনে। বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয়েছিল নির্দিষ্ট দাবিকে কেন্দ্র করে। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার সংস্কার। এক সীমিত ছাত্র আন্দোলন হিসাবে এটার সূচনা হয়েছিল; কিন্তু আন্দোলন দমনে সরকারের চূড়ান্ত দমনমূলক ব্যবস্থা, পুলিশি জুলুম, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একধরনের প্রতারণামূলক ভাষণ এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অবিশ্বাস ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ফলে আন্দোলন দ্রুত কোটা সংস্কারের ছোট্ট গণ্ডি পেরিয়ে বৈষম্যবিরোধী এবং তারপর গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিল, যা সাধারণ মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করেছিল। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৫ আগস্ট লাখ লাখ বিক্ষোভকারী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং সেদিনই সরকারের পতন হয়। 

তিন নম্বর হচ্ছে নেপালের নতুন ছবি, যা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের বিস্ফোরণ জন্ম দিয়েছে দেশজুড়ে আন্দোলনের। নেপালের চলমান বিক্ষোভের সরাসরি সূত্রপাত হয়েছিল সরকারের এক আপাতদৃষ্টিতে ছোট্ট সিদ্ধান্তের কারণে। ২৬টা সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম, যার মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদি আছে, সেগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সরকার জানিয়েছিল, প্ল্যাটফর্মগুলো সরকারের কাছে নিবন্ধিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা, পর্যটন মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং প্রবাসে থাকা স্বজনদের সঙ্গে নাগরিকদের যে যোগাযোগ, সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ, যারা এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে সামান্য কিছু আয় করে, তারাও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বিক্ষোভ এক বিরাট চেহারা নেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা নিজেরাই বলছে, এটা শুধু একটা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়। এই আন্দোলনের মূল কারণ হলো নেপালের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব। 

দক্ষিণ এশিয়ার এই তিন দেশের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে একটা প্রশ্ন উঠছে যে, ভারতেও কি একই ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা আছে? 
ভারতে ১৯৫০ থেকে আজ অবধি সব রাজ্যে, কেন্দ্রে সরকার পরিবর্তন হয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস কিন্তু চলে যাচ্ছে বা সরকার এমন কিছু করছে, যাতে করে মানুষ মনে করছে আমার ভোটে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। আর তাই এই মুহূর্তে ভারতে ওই দেশগুলোর মতো একটা সর্বব্যাপী গণবিস্ফোরণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও একেবারে নেই, এ কথা বলা যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া এই আগুন আমাদের দেশে জ্বলবে না, তেমন গ্যারান্টি কিন্তু কেউ দিতে পারবে না।