সারাবিশ্ব

কলম্বিয়ায় স্কুলবাস খাদে পড়ে নিহত ১৭ শিক্ষার্থী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:০১ পিএম

কলম্বিয়ায় স্কুলবাস খাদে পড়ে নিহত ১৭ শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কলম্বিয়ার একটি গ্রামীণ এলাকায় স্কুলশিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৭ জন  শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও প্রায় ২০ জন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

অ্যান্টিওকিয়া বিভাগের গভর্নর আন্দ্রেস হুলিয়ান জানান, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে। শিক্ষার্থীরা স্কুলভ্রমণের শেষে ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর তুলু থেকে মেডেলিন ফেরার পথে ছিলেন। বাসটিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টিওকেনো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা সমুদ্রসৈকতে তাদের স্নাতক সমাপ্তির আনন্দ উদযাপন করছিল। গভর্নর যুক্ত করেন, “ডিসেম্বরের এই সময়ে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক খবর। নিহতদের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য আমাদের সহমর্মিতা রইল।”

নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে লিসেও অ্যান্টিওকেনো স্কুলে একটি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মোমবাতি রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে পাঠিয়েছে। তবে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় রাস্তা ভেজা ছিল এবং তা দুর্ঘটনার সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করেছিল। বাসটিতে নিরাপত্তা মান এবং যানবাহনের গতির দিকে তদন্ত শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ।

এই দুর্ঘটনা কলম্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কলম্বিয়ার বিভিন্ন অংশে স্কুলবাস দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটছে, যা শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

গভর্নর আরও বলেছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে এবং যারা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পরিবার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্কুল প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।

উল্লেখ্য, কলম্বিয়ার স্কুলশিক্ষার্থীদের পরিবহন ব্যবস্থা প্রায়শই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় বাস চলাচল করার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রশাসন ইতিমধ্যে কয়েকটি নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা সম্প্রদায়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পরিবার ও শিক্ষার্থীদের সহপাঠীরা তাদের আত্মীয়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং স্থানীয় স্কুলগুলোতে শোক প্রর্দশন করা হয়েছে।