সারাবিশ্ব

শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী, মোদিকে অভিষেকের প্রশ্ন


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী, মোদিকে অভিষেকের প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে অনুপ্রবেশ বিতর্ক। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে থাকা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তর্ক। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরকে ঘিরে তীব্র আক্রমণ চালাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিশেষ হেলিকপ্টারে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রায় ২০ মাস ধরে দিল্লিতে অবস্থান করছেন—এ বিষয়টিই এখন নির্বাচনী প্রচারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শেখ হাসিনার অবস্থান ও তার আইনি স্ট্যাটাস নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বীরভূমের এক নির্বাচনী সমাবেশে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি শরণার্থী নাকি অনুপ্রবেশকারী—এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান দীর্ঘ সময় ধরে দিল্লিতে অবস্থান করলেও তার আইনি অবস্থান কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ ইস্যুতে সরাসরি জবাব না দিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলে। বর্ধমানের কালনায় নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধেই রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশ ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেউ ছাড় পাবে না।

একই ইস্যুতে বিজেপির আরেক শীর্ষ নেতা অমিত শাহ-ও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার চালিয়ে উন্নয়ন, বেকারত্ব ও দুর্নীতি ইস্যুকে সামনে আনছেন।

অনুপ্রবেশ ইস্যু ছাড়াও ভোটার তালিকা, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে ৪ মে।