সারাবিশ্ব
হরমুজে ইরান নয়, চাইলে টোল নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতা কার্যকর হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
শনিবার (২০ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরান কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আদায় করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নিজেদের স্বার্থে এই জলপথে শুল্ক আরোপ করতে পারে। তার ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন ধরে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ বা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করার খরচের ক্ষতিপূরণ হিসেবেই এমন শুল্ক বিবেচনা করা যেতে পারে।
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতের পর ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সময় কোনো জাহাজের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করার কথাও উল্লেখ ছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক চুক্তির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখছেন।
এরই মধ্যে শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, যা সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখনো স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক সার বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ এই জলপথের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে সংঘাতের সময় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছিল। পরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে চলমান সংকট নিরসন এবং যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি এবং লেবাননকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সদ্য সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা