সারাবিশ্ব
রাশিয়ার ‘চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী’ তালিকায় টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল
জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভকে ‘চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে রাশিয়ার আর্থিক নজরদারি সংস্থা রসফিনমনিটরিং। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ইউক্রেনের গোয়েন্দারা রাশিয়ার ভেতরে হামলার পরিকল্পনায় টেলিগ্রাম ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ তুলে গত বুধবার মস্কো দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে।
রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস জানিয়েছে, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত দুরভকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায়ও যুক্ত করা হয়েছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রুশ নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রভাব জোরদার করার অংশ হিসেবেই টেলিগ্রামের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাশিয়ার এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ টেলিগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে দুরভের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করা হয়। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিন জানিয়েছে, এখনো টেলিগ্রামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি এবং অ্যাপ ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই।
২০১৪ সালে রাশিয়া ছেড়ে দুবাইয়ে টেলিগ্রামের কার্যক্রম স্থানান্তর করেন দুরভ। নতুন এই তালিকায় তার নাম যুক্ত হয়েছে তালেবান, মেটা এবং তথাকথিত ‘এলজিবিটি আন্দোলন’-এর সঙ্গে। এর ফলে রাশিয়ায় এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর এই অ্যাপটি রাশিয়া, ইউক্রেনসহ সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়। এমনকি রুশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও নিয়মিত টেলিগ্রাম ব্যবহার করে থাকেন।
তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির পর নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি মিম পোস্ট করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দুরভ। সেখানে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে নিজেকে ‘সন্ত্রাসীদের সহযোগী’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং পাশাপাশি রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ-এর সঙ্গে তালেবান সদস্যদের বৈঠকের একটি ছবি যুক্ত করেন।