সারাবিশ্ব

ইউক্রেন ভূমি ছেড়ে না দিলে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি পুতিনের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম

ইউক্রেন ভূমি ছেড়ে না দিলে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি পুতিনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেন যদি মস্কোর দাবিকৃত অঞ্চলগুলো ছেড়ে না দেয়, তবে রাশিয়া সামরিক উপায়ে সেগুলো দখল করবে এবং লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “যদি ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলো ছেড়ে চলে যায়, আমরা যুদ্ধ অভিযান বন্ধ করে দেব। তবে তারা না ছাড়লে আমরা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সেগুলো দখল করব।”

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে পূর্ব ইউক্রেনে অগ্রসর হচ্ছে, যা একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এই আগ্রাসন ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন প্রায় চার বছরের চলমান যুদ্ধের সমাধান করতে নতুন একটি শান্তি পরিকল্পনার উপর কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, আসন্ন মস্কো-কিয়েভ আলোচনার মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

কিরগিজস্তান সফরের সময় পুতিন আরও বলেন, “কিয়েভ যদি মস্কোর দাবিকৃত ভূমি ছেড়ে দেয়, আমরা লড়াই বন্ধ করব। যদি তা না হয়, আমাদের সেনা বাহিনী সামরিক উপায়ে দখল করবে।”

বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে কিয়েভ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তারা কখনো দখলকৃত ভূখণ্ড ছাড়বে না। এটি শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর মধ্যে একটি।

পশ্চিমা নিরাপত্তা গ্যারান্টি ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা মনে করে, এটি ভবিষ্যতে রাশিয়ার পুনরায় আক্রমণ রোধে অত্যাবশ্যক। ওয়াশিংটনের প্রাথমিক পরিকল্পনায় কিয়েভকে পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চল ছাড়তে বলা হয়েছিল এবং কার্যত দোনেৎস্ক, ক্রিমিয়া ও লুগানস্ক অঞ্চলের রাশিয়ান স্বীকৃতি প্রদানের বিষয় ছিল। তবে ইউক্রেন ও ইউরোপের সমালোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেছে।

পুতিন নতুন সংস্করণ প্রকাশ না হওয়া সত্ত্বেও বলেন, এটি আলোচনার একটি সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি যোগ করেন, “সামগ্রিকভাবে, এটি ভবিষ্যতের চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে রাশিয়া এখনও দখলকৃত অঞ্চলগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে।”