সারাবিশ্ব
ভারতে ‘বাংলাদেশি’ অপবাদে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের
ভারতের ওড়িশায় ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ হওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে এক মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (গতকাল) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে সম্বলপুর শহরের শান্তিনগর এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম জুয়েল শেখ (৩০)। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনের কাজ শেষে জুয়েল শেখ একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। এ সময় চার থেকে পাঁচজনের একটি উগ্রবাদী দল সেখানে এসে শ্রমিকদের জেরা শুরু করে। তারা হঠাৎ করেই ওই শ্রমিকদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে অভিযুক্ত করে এবং পরিচয়পত্র দেখতে চায়।
শ্রমিকরা বৈধ পরিচয়পত্র দেখালেও হামলাকারীরা সেগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে তারা শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয়। অন্য তিনজন কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও জুয়েল শেখকে ধরে ফেলে উন্মত্ত জনতা। বেধড়ক মারধরের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ভুক্তভোগীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে। গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়া তিন শ্রমিক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ধারাবাহিকতারই আরেকটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। এর আগে, গত সপ্তাহে কেরালা রাজ্যে একই ধরনের অভিযোগে এক ভারতীয় হিন্দু শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
কেরালার সেই ঘটনায় নিহত হন রামনারায়ণ বাঘেল (৩১)। তিনি ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা এবং কাজের সন্ধানে কেরালার পালাক্কাড জেলায় গিয়েছিলেন। দলিত সম্প্রদায়ের এই শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে কেরালা পুলিশ এবং আরও কয়েকজন অভিযুক্তের সন্ধানে অভিযান চলছে।
পরপর এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ভারতের ভেতরে সংখ্যালঘু, পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ধর্ম ও পরিচয়ের নামে উগ্র সহিংসতা রোধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।