সারাবিশ্ব
আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: দাবি শুভেন্দুর
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, সহিংসতায় জড়িতদের অধিকাংশই প্রকৃত শিক্ষার্থী নয়; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী, যাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন থাকতে পারে।
রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা চালিয়েছে, তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক নেই। তদন্ত সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে, এসব গোষ্ঠীর পেছনে বিদেশি কোনো সমর্থন রয়েছে কি না।
গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এ ঘটনার পর সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্যের নতুন ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সহিংসতায় জড়িতদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা তাদের পরবর্তী প্রজন্মও মনে রাখবে।
এর আগে বিধানসভাতেও তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নয় এবং তাদের সঙ্গে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।
তার মতে, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং তাদের প্রাণনাশের চেষ্টাও করা হয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য সর্বনিম্ন পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি তাদের ৩৬ দিনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারের সম্মতি পাওয়ার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া