আইন আদালত

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২৫ এএম

ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী বুধবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। এর আগে চার দিনে নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম শুনানি পরিচালনা করেন। এ সময় অন্যান্য প্রসিকিউটররাও উপস্থিত ছিলেন। পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে গ্রেফতার আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে গ্রেফতার চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে সত্য উদঘাটনের স্বার্থে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে।

এর আগে গত ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও তারা আত্মসমর্পণ না করায় আদালত তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করে।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) ১ জুন ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয়। প্রসিকিউশন এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপন করে। এর মধ্যে হত্যা, গণহত্যা, গুম, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের মতো অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই প্রথম মামলা বিচারাধীন হয়। এর পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। এর একটি গুম-খুনের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে, অপরটি রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে একের পর এক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছে। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কার্যক্রম চলছে।