আইন আদালত

সনি র‍্যাংগসের এমডিসহ ৩ জনের বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

সনি র‍্যাংগসের এমডিসহ ৩ জনের বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সনি র‍্যাংগস (র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেড)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরাম হোসেনসহ তার পরিবারের তিন সদস্যের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জনাব মোঃ সাব্বির ফয়েজ এই নিষেধাজ্ঞা দেন। আদেশে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন— সনি র‍্যাংগসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরাম হোসেন, তার ভাই ও প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) বিনাস হোসেন এবং পরিচালক সাচিমি ওগাওয়ারা হোসেন।

দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের করা আবেদনে সনি র‍্যাংগসের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর সব দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে:

১. অর্থ পাচার: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরের ‘ট্রাস্ট মোটো’ (Trust Motto Pte Ltd) এবং ‘মেটলোক’ (Metloco Pvt Ltd) নামক শেল কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

২. পণ্য জালিয়াতি ও প্রতারণা: অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় ব্র্যান্ড ‘ওয়ালটন’-এর কারখানায় উৎপাদিত ফ্রিজ ও এসি সংগ্রহ করে সেগুলোতে বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।

৩. বিপুল রাজস্ব ফাঁকি: বিগত ৩৫ বছরে আন্ডার-ইনভয়েসিং ও ওভার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার তথ্য দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের তথ্যমতে, অভিযুক্তরা তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। বর্তমানে অনুসন্ধানকারী দল তাদের নামে দেশে-বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব যাচাই করছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত সতর্কবার্তা ইতোমধ্যে দেশের সকল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে পাঠানো হয়েছে যাতে তারা কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন।

আদালত দুদকের যুক্তি গ্রহণ করে এই তিনজনের বিদেশ গমনে তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা দ্রুত কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন।