আইন আদালত

হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল
শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মতিঝিলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আদালত আগামী ১৯ এপ্রিল পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন।

গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালত জাবেরের নারাজি মঞ্জুর করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার পটভূমি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর আঘাত এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হাদির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটানোর বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রভাববিস্তার রোধ এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারণায় অনুপ্রবেশ করেছিল।

মামলায় উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার বাবা-মাতা, স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবীসহ মোট ১৭ জন রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন এখনও পলাতক।