আইন আদালত
মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার
বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হবে মঙ্গলবার। মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যারও চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৭ মে তা শেষ হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচারিক কার্যক্রম।
পরে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামি সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানোর বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।
পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুনানি শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।