জাতীয়

গোপালগঞ্জে আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী : আইএসপিআর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫০ পিএম

গোপালগঞ্জে আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী : আইএসপিআর
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আত্মরক্ষার জন্য সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি। এ সময় জনগণকে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য ধারণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলায় একটি রাজনৈতিক দলের ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আহ্বানকৃত জনসমাবেশ ঘিরে হঠাৎ করে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা সংঘবদ্ধভাবে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হন। একই সঙ্গে সরকারি স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ ভবন এবং যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সহিংস পরিস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কিছুক্ষণ পরেই উক্ত রাজনৈতিক সমাবেশ চলাকালীন আবারও মঞ্চে হামলা চালানো হয়। একই সময় জেলা কারাগারেও চালানো হয় ব্যাপক ভাঙচুর। এসব ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে সেনাবাহিনী বারবার মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রদান করে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে দুষ্কৃতিকারীরা সেনাবাহিনীর ওপর ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। পরে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ঘটনার পর গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষদের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। গোটা পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারি এবং ধৈর্যপূর্ণ ভূমিকার ফলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

আইএসপিআর জানায়, বর্তমানে গোপালগঞ্জে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা কারফিউ বলবৎ আছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থাগুলো ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জের জনগণ ধৈর্য ও সচেতনতার পরিচয় দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ সহযোগিতা করেছে।

সংস্থাটি সবাইকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে বলে, জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে পাশে থাকতে হবে।