জাতীয়

শেখ হাসিনার ‘ফেরার পরিকল্পনা’ ঘিরে গোপন বৈঠক, গ্রেপ্তার ২২


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৫০ এএম

শেখ হাসিনার ‘ফেরার পরিকল্পনা’ ঘিরে গোপন বৈঠক, গ্রেপ্তার ২২
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি কনভেনশন সেন্টারে ‘নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের’ আয়োজিত গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণের অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকায় সেনা সদর দপ্তরের এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির সদস্যরা আবারও সংগঠিত হয়ে সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিল। এই কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হক ওরফে মেজর সাদিক।

ডিএমপির মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা ‘প্রিয় স্বদেশ’, ‘এফ ৭১ গেরিলা’, ‘শেখ হাসিনা’, ‘বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম’সহ একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন। এদের সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

ভাটারা থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসুন্ধরার ‘কে বি কনভেনশন সেন্টারে’ আয়োজিত বৈঠকে ৩০০–৪০০ জন অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনার ‘পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসা’ এবং শাহবাগ মোড় দখল করে ‘অস্থিরতা সৃষ্টির’ পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈঠকে সরকারবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনায় ১৩ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নথিতে বলা হয়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত সেনাবাহিনীর এক মেজর অংশগ্রহণকারীদের ‘রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ’ দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বরগুনা জেলা যুবলীগের নেতা সোহেল রানা এবং গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী শামীমা নাসরিন। তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে বৈঠকের ভেতরের পরিকল্পনার বিস্তারিত।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কনভেনশন সেন্টারের ব্যবস্থাপক মুজাহিদ ওইদিন সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে জানা যায়, সারা দিন সেখানে ব্যানারবিহীন ‘রাজনৈতিক মহড়া’র মতো কার্যক্রম চলছিল এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও লোকজনকে সেখানে আনা হয়।

সেনা সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মেজরের বিষয়ে তারা অবগত এবং তদন্ত চলছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, প্রাথমিকভাবে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে সেনাবাহিনী নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।