জাতীয়

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২১ এএম

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন—ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য হন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের পর্দা নামায় এ দিনটি। এই পালাবদলের পর দিবসটি ‘৩৬ জুলাই’ নামেও পরিচিতি পায়।

জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপিত এই দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে। সকাল ৯টায় ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। একইসাথে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন হয় শহীদদের স্মরণে।

ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনব্যাপী ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা’র আয়োজন করা হয়েছে। মূল মঞ্চে সাউন্ড, লাইটিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দিবসের কেন্দ্রীয় ঘোষণা পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে থাকছে বিশেষ ড্রোন শো এবং রাত ৮টায় পরিবেশিত হবে জনপ্রিয় ব্যান্ডদলগুলোর কনসার্ট।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের বর্ষপূর্তিতে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাই।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তার বাণীতে বলেন, “জুলাই আমাদের জাগিয়ে তুলেছে—একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। যারা এই গণতান্ত্রিক অর্জন নস্যাৎ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে।”

এ দিবস উপলক্ষে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে।