জাতীয়

আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছরেও কার্যকর হয়নি রায়, বাবার আক্ষেপ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২০ এএম

আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছরেও কার্যকর হয়নি রায়, বাবার আক্ষেপ
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ছবি: সংগৃহীত

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছর পার হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি এ বহুল আলোচিত মামলার। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায় দেওয়ার পরও শুরু হয়নি আপিল বিভাগের কার্যক্রম। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তিনি দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি ও দোষীদের শাস্তি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। তার ঠিক ওপরে ২০১১ নম্বর কক্ষ, সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় আবরারের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ওই কক্ষেই নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আবরারকে। পরে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয় হলের সিঁড়িতে।

সন্তান হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ তৎকালীন বুয়েট ছাত্রলীগের ২৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। প্রায় দুই বছর পর বিচারিক আদালত রায়ে ২০ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে।

তবে এরপর কয়েকজন আসামি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু দাবি করেন, “দুই রায়ে বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে, তাই আপিল বিভাগে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন।” অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আপিল শুনানি শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলার দীর্ঘসূত্রতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, “আমরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাষ্ট্রের উচিত দ্রুত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে অপরাধীরা পরোক্ষভাবে লাভবান হয়, যা সমাজে বিচারপ্রাপ্তির আস্থাকে দুর্বল করে তোলে।

এদিকে, আবরার ফাহাদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে বুয়েটের শেরেবাংলা হল প্রশাসন নির্মাণ করেছে ‘আবরার স্মৃতিফলক’। হল প্রাঙ্গণে স্থাপিত এই ফলকটি এখন আবরারের স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি নিয়ে মত প্রকাশ করায় আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পেটায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঝড় বয়ে যায়। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি সেই হত্যার রায়, যা প্রশ্ন তুলেছে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে।