জাতীয়

সরকারি বাসভবন ছাড়তে সাবেক উপদেষ্টাদের নির্দেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

সরকারি বাসভবন ছাড়তে সাবেক উপদেষ্টাদের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দ্রুত সরকারি বাসভবন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মধ্যেই বাসা খালি করার কথা জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের পর কেউ সরকারি বাসায় অবস্থান করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে।

আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকার জন্য সাবেক উপদেষ্টা বা অন্য কারও পক্ষ থেকে কোনো আবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। তারা পেনশন সুবিধাও পান না। বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে সবাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাসা ছাড়বেন। বিশেষ প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত এক মাস সময় দেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে মোট ২৪টি বাংলো ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার জন্য রয়েছে পৃথক একটি বাসভবন। এসব স্থাপনা দ্রুত সংস্কার করে এক মাসের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে যেসব সাবেক কর্তাব্যক্তি সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে। তারা কেউ চলতি মাসের বাইরে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

আবাসন পরিদপ্তরের লক্ষ্য মার্চের মধ্যেই নতুন বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা। ইতোমধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবেদন করেছেন। কোন বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্ট কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। পরে আবেদনগুলো নবনিযুক্ত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের দপ্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। আবেদনকারীদের পছন্দের বাসভবন সরেজমিনে পরিদর্শন করে মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী আছেন আরও ১০ জন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ ও হুইপদের জন্যও আবাসনের প্রয়োজন রয়েছে। অথচ বরাদ্দযোগ্য মোট বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৩৭টি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য আপাতত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ নির্ধারিত থাকবে।

এ তালিকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক বলেন, সবাই যে সরকারি বাসা চাইবেন এমন নয়, তাই আবাসন সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ) আকনুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, আইনে এ ধরনের বিধান আছে কিনা তা পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। তার আগে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

সূত্র: সমকাল