জাতীয়

তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা আজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা আজ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর আজ জাতীয় সংসদে প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে দলটির নেতৃত্বাধীন সরকার। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।

এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট হলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৩তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ব্যয়ের মধ্যে পরিচালন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য ব্যয় এই খাত থেকে মেটানো হবে। অন্যদিকে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

রাজস্ব আয় বাড়াতে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর অগ্রিম কর আরোপ এবং ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অভিন্ন লেনদেনভিত্তিক কর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

করের আওতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও সরকারি প্রজ্ঞাপনে করমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া সবার জন্য ব্যাংক হিসাব খুলতে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের তথ্য যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও নিবন্ধনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, মাছ, মাংসসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিশুখাদ্য, খেজুর, বিভিন্ন মসলা, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রিং, চোখের কৃত্রিম লেন্স এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সামগ্রীর ওপর কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রযুক্তি খাতেও থাকছে স্বস্তি। মোবাইল সংযোগের ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মুদ্রণযন্ত্র ও পর্দা আমদানিতে কর ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে গিটার, পিয়ানো, বেহালা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহৃত ক্যামেরার শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকারের দাবি, করের হার বৃদ্ধি না করে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড়ের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমবে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়ানো সম্ভব হবে।