জাতীয়

মদ ও জুয়া নিষিদ্ধের বেসরকারি বিল সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার  


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

মদ ও জুয়া নিষিদ্ধের বেসরকারি বিল সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার  
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া নিষিদ্ধের বিধান রেখে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ শীর্ষক দুটি বেসরকারি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অনুরোধে তিনি বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্দেশ্যে বিল দুটি এনেছেন, তার বিষয়বস্তু বিদ্যমান আইনেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর বিভিন্ন ধারায় মদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। তাই একই বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

এরপর আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহারে সম্মতি দেন। অধিবেশন পরিচালনাকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, প্রস্তাবকারী সদস্য বিল উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আর ভোটে দেওয়া হয়নি।

প্রস্তাবিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’-এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং জনস্বাস্থ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মদ ও জুয়ার আসক্তি তরুণদের নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট করে। এর ফলে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে, পড়াশোনা ও কর্মজীবন থেকে বিচ্যুত হতে পারে এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি মদ্যপান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এছাড়া সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার উন্নয়নের স্বার্থে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ অংশে উল্লেখ করা হয়।

সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী নন—এমন কোনো সংসদ সদস্য জনস্বার্থে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব হিসেবে বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারেন। তবে বিলটি উপস্থাপনের আগে সংসদের অনুমতি প্রয়োজন হয়। অনুমোদন পেলে বিলটি সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বেসরকারি বিল উত্থাপনের বহু নজির থাকলেও খুব কম সংখ্যক বিলই শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থনের অভাব, সরকারের অনাগ্রহ এবং আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন না হওয়ায় অধিকাংশ বেসরকারি বিল চূড়ান্ত রূপ পায় না। তবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব এবং সংসদে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় মাধ্যম হিসেবে বেসরকারি বিলকে বিবেচনা করা হয়।