জাতীয়

দেশসেবায় আত্মনিয়োগে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান ডা. জুবাইদার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

দেশসেবায় আত্মনিয়োগে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান ডা. জুবাইদার
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে কঠোর একাডেমিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখায় শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, “সংস্কৃতি মানবসভ্যতার অন্যতম ভিত্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা দেশের সেরা মেধাবীদের মধ্যে অন্যতম। তবে কেবল মেধা নয়, মানবিকতা ও সহমর্মিতার সমন্বয়েই একজন চিকিৎসক মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারেন।”

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে গেলেও নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকরা দেশে ফিরে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবেন এবং জাতীয় সংকটের সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ০.৮৩ জন। একজন চিকিৎসককে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীর সেবা দিতে হয়, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। গ্রামাঞ্চলে এ সংকট আরও প্রকট। এছাড়া দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত, অথচ প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। নার্সের সংখ্যাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তিনি আরও বলেন, সরকারি চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে চিকিৎসা ব্যয় এখনও অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাজীবন থেকেই দেশসেবার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এলে ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে চিকিৎসার অভাবে কোনো গ্রামবাসী প্রাণ হারাবে না এবং কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা বা নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য কারণে হবে না। তিনি নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।