জাতীয়
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়াটার ট্রিটমেন্টে ১০০ কোটি টাকা দিচ্ছে ডেনমার্ক: প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি শোধন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে ডেনমার্ক। মঙ্গলবার ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারেও ডেনমার্ক সরকারের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকার পানি সরবরাহ নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, মেঘনা নদী থেকে পানি এনে রাজধানীতে সরবরাহের জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সায়েদাবাদ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ৯৫ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রকল্পের শেষ পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করতে ডেনমার্ক সরকার প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা করবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা স্বল্প সুদের ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। এই ঋণ ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বিকল্প উৎস হিসেবে লবণাক্ত পানি শোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, চাঁদপুর ও মংলার মতো এলাকায় এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে এডিপি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
পরিশোধিত পানি গ্যাসের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মোট পানির প্রায় ৭৪ শতাংশই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হয়। পরিবেশের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভূমিকম্পের আশঙ্কাও বাড়ায়। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।