রাজনীতি

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করবো, ঘি আমাদের লাগবেই: ডা. তাহের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:১৯ পিএম

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করবো, ঘি আমাদের লাগবেই: ডা. তাহের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, “সোজা আঙুলে যদি ঘি না ওঠে, আঙুল বাঁকা করবো—ঘি আমাদের লাগবেই। নো হাঙ্কি পাঙ্কি!”

তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি জনগণের দাবি মানা না হয়, তাহলে রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াতসহ আটটি সমমনা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদানের আগে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের বলেন, “আমরা রাজপথে এসেছি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য। প্রয়োজনে আবার রক্ত দেব, জীবন দেব, কিন্তু জুলাইয়ের অর্জনকে ব্যর্থ হতে দেব না। জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সময়ক্ষেপণ ও রাজনৈতিক চালাকির আশ্রয় নিচ্ছে। “আলোচনা করবো, করবো-এভাবে টালবাহানা করতে করতে নির্বাচনের সময় ফেব্রুয়ারির কাছাকাছি চলে এসেছে। এই চালাকি সরকারকেই বিপদে ফেলবে। জামায়াত প্রয়োজনে দাবি আদায়ে নতুন কৌশল উদ্ভাবন করবে।”

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও গণভোট করার ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই।

খরচের অজুহাতকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “দেশে একদিনে যত চাঁদাবাজি হয়, তা বন্ধ করলে প্রতিদিন একটি করে গণভোট আয়োজনের টাকাও পাওয়া যাবে।”

ডা. তাহের বলেন, জামায়াত সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাই আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “শুধু তোমরাই আলোচনা করবে-এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সরকারকে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে এবং নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা রাখতে হবে।”

সমাবেশে তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিও আহ্বান জানান।

ডা. তাহের বলেন, “আমি সকালেও উনাকে ফোন করার চেষ্টা করেছি, পাইনি। ইনশাআল্লাহ এই প্রোগ্রামের পর আবার চেষ্টা করবো। বিএনপির পক্ষ থেকেও দ্রুত আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাবো।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি এখন বিদ্বেষ নয়, ঐক্যের সময়। আগামী নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু ও নিরাপদ হবে, ভোট ডাকাতি কীভাবে রোধ করা যাবে-এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে।”

তার প্রস্তাব, প্রতিটি দল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক- তারা কোনো ভোটকেন্দ্র দখল করবে না; যদি করে, তবে সেই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। ৫৪ বছরে এ দেশের মানুষ কখনো সত্যিকারের নির্বাচন পায়নি। এবারও যদি প্রশাসনিক প্রভাবে নির্বাচন হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না।”

সমাবেশ শেষে গণমিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি পেশের ঘোষণা দেন জামায়াত নেতারা।

তিনি আরও জানান, “যদি এর কোনো ইতিবাচক ফল না আসে, তাহলে আগামী ১১ নভেম্বর ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি পালন করা হবে। সেদিন ঢাকা মহানগরী রূপ নেবে জনতার মহানগরীতে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা রাজপথে থাকবো, জনগণের পক্ষে থাকবো।”