রাজনীতি

বিএনপি ও তারেক রহমানের চরিত্র হননের অপচেষ্টার প্রতিবাদ বিএনপির


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম

বিএনপি ও তারেক রহমানের চরিত্র হননের অপচেষ্টার প্রতিবাদ বিএনপির
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত লালচাঁদ সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে চরিত্র হননের অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি।

সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে, সুপরিকল্পিতভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ও তার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে নোংরা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা শুধু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং গণতন্ত্রবিনাশী ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।"

তিনি বলেন, "এই ঘটনায় যে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না থাকলেও, দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার মানদণ্ডে তাদের আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি আমাদের দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণের নিদর্শন।"

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারও মামলার এজাহারে নামের গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের নাম মামলায় যুক্ত করা হয়েছে তারা প্রকৃত অপরাধী নন। অথচ এখনও পর্যন্ত প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তিনি আরও বলেন, "সরকার পরিচালনার দায়িত্বে না থাকা একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে আন্দোলনের অগ্রসেনানিকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা চলছে। এমনকি শিশু-কিশোরদের মুখ দিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল বক্তব্য প্রচার করে আগামী প্রজন্মের মানসিক বিকাশও বিপন্ন করা হচ্ছে।"

মির্জা ফখরুল বলেন, “৯ জুলাই ঘটনাটি ঘটার পর দুই দিন পর, ১১ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর ‘প্রাইম টাইমে’ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সাজানো ভিডিও ও ফটোকার্ড। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, এ ধরনের অপপ্রচার পূর্বপরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এই ঘৃণ্য আক্রমণের টার্গেট এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক বিএনপি ও তারেক রহমান। তাঁকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে কুৎসা রটিয়ে জাতীয় ঐক্যকে বিনষ্ট করা হচ্ছে।”

মির্জা ফখরুল প্রশ্ন তোলেন, “কুমিল্লার মুরাদনগরে একসাথে তিনজনকে হত্যা, ইমাম খুন কিংবা খুলনায় যুবদল নেতা মাহবুব মোল্লাকে নৃশংসভাবে রগকাটা ও হত্যা—এই ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে কি একই রকম প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছি?”

তিনি বলেন, "জনসম্মুখে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও ভিডিও ধারণকারী কেউ বাধা না দিয়ে নির্বিঘ্নে ভিডিও ধারণ করেছে—এটিও প্রশ্নের জন্ম দেয়। এর ফলে এটিকে পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা তৈরির অংশ হিসেবে দেখার যথেষ্ট যুক্তি আছে।"

বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে বলেন, “এ দেশে ফ্যাসিবাদের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বিএনপি ও দেশের তারুণ্য বরাবরই অগ্রসেনানির ভূমিকা পালন করে আসছে।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সংঘাত সৃষ্টির পরিকল্পিত ফাঁদে পা না দিয়ে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় ঐক্যকে দৃঢ় করা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই দেশের চলমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে স্তব্ধ করতে পারবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।