রাজনীতি
কাগজে-কলমে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না: রুমিন ফারহানা
কাগজে-কলমে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে ইতিহাসে কখনো সফলতা পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার মতে, রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিষিদ্ধ করলেও তারা পরে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।
সম্প্রতি জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান দেখবেন, কাগজে-কলমে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না। পৃথিবীর ইতিহাসে কেবলমাত্র লিখিত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে বিলীন করে দেওয়া হয়নি। সাময়িকভাবে শান্তি বা আত্মতুষ্টি মিলতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে সেই দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে—এটা ইতিহাস প্রমাণ করেছে।”
উদাহরণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলকে উল্লেখ করে বলেন, “ইমরান খানের দলের নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছে। অর্থাৎ মানুষের মন থেকে রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্বকে মুছে দেওয়া যায় না।”
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, “যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে জনগণের আদালতে ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে দেখা যেত তারা কত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সাহস পায়। এমনকি প্রার্থী দিলেও এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর মতো অবস্থায় তারা থাকত কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। ড. ইউনূস যদি প্রমাণ করতে পারতেন যে তার শাসনকাল শেখ হাসিনার সময়ের চেয়ে ভালো, তবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো আসনে প্রার্থী দেওয়া কঠিন হয়ে যেত।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নাজুক। সেই কারণে আওয়ামী লীগ হয়তো এখনো প্রার্থী দিতে পারছে। কিন্তু জনগণের রায়ের মুখোমুখি হলে তাদের রাজনৈতিক শক্তি কতটা টিকতে পারে, সেটি নিয়েই প্রশ্ন।”
রুমিন ফারহানার মতে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা গণতন্ত্র ও জনগণের মতপ্রকাশের অধিকারকে সীমিত করে। তাই কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং জনগণের রায়ই প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তির মাপকাঠি হওয়া উচিত।