রাজনীতি
‘নভেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই বিএনপির নির্বাহী প্রধান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, সে অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। দলের ভেতর ও বাইরে সবাই এই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।”
২০০৭ সালে এক-এগারোর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। পরের বছর জরুরি অবস্থার সময় তিনি কারামুক্ত হয়ে সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি জমান। এরপর দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুপস্থিত অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দায়ের হয় এবং পাঁচ মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ও বিবৃতি প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে সব মামলায় খালাস পান তারেক রহমান। তবুও এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও তিনি দেশে ফেরেননি।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, “আমি খুব শিগগিরই দেশে ফিরব।” তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয় তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে।
এদিকে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করছি। এনসিপির সঙ্গেও রাজনৈতিক সংলাপ চলছে। তবে বিএনপি ও এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জোটভুক্ত হবে কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “আরপিওর ২০(১) উপধারায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ছোট দলগুলোর জোটে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এতে ছোট দলের নেতারা নিরুৎসাহিত হবেন। বিএনপি একটি বহুদলীয় ও শক্তিশালী সংসদ দেখতে চায়। তাই আমরা এই সংশোধনী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে এ বিষয়ে আপত্তিপত্র দেবে।
এছাড়া নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চলতি অক্টোবর মাসেই অন্তত ২০০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হবে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য।”
দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এ খবরকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।