রাজনীতি

আসন বণ্টনে অসন্তোষ, ভোটের আগে বিএনপির জোটে ভাঙনের সুর!


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০০ পিএম

আসন বণ্টনে অসন্তোষ, ভোটের আগে বিএনপির জোটে ভাঙনের সুর!
(বাম দিক থেকে) মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, নুরুল হক নুর ও সৈয়দ এহসানুল হুদা | ছবি:

নির্বাচনের আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে সমমনা শরিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় অনেক শরিক দল মনে করছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও আন্দোলনের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না বিএনপি। এ ক্ষোভ থেকেই কেউ কেউ জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবার কেউ নতুন রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার কথাও ভাবছে।

গত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে একাধিক ছোট ও মাঝারি রাজনৈতিক দল। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর যখন আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তখনই সেই ঐক্যে ফাটল দেখা দিচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির একতরফা প্রার্থী ঘোষণাকে অনেক শরিক দল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছে।

লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং ১২ দলীয় জোটের নেতাদের অভিযোগ, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মতে, এতদিনের আন্দোলনের শরিকদের কেবল আশ্বাস দিয়ে বাস্তবে কিছু না দেওয়া রাজনৈতিকভাবে হতাশাজনক। নেতারা এটিকে “স্বপ্ন দেখিয়ে হাওয়াই বাতাসা খাওয়ানোর” সঙ্গে তুলনা করছেন।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখানো হলেও ৩০০ আসনের সংসদে জোটের শরিকদের জন্য সম্মানজনক সংখ্যক আসন খুঁজে না পাওয়া অগ্রহণযোগ্য। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ভাষায়, ছোট দল হলেও তাদের নিজস্ব পরিচিতি ও রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে, যা দুই-একটি আসনের বিনিময়ে বিসর্জন দেওয়া সম্ভব নয়।

একই সুর শোনা গেছে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন আন্দোলনে সঙ্গে ছিলেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতাশাজনক।

এই অসন্তোষেরই ধারাবাহিকতায় লেবার পার্টি ইতোমধ্যে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদও জানিয়েছে, সম্মানজনক অবস্থান পেলে তারা নতুন জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। নুরুল হক নুর বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যারা ন্যায্যতা ও সম্মানের ভিত্তিতে রাজনীতি করবে, তাদের সঙ্গেই ভবিষ্যতে জোট গড়া হবে।

অন্যদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, নির্বাচনে প্রতিটি দলকে নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে, ফলে সব আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ভোটের সমীকরণ বিবেচনা করেই আসন বণ্টন করা হচ্ছে এবং যাদের আসন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাদের অন্যভাবে মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অসন্তোষ বিএনপির জন্য নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, এককভাবে সব জায়গায় জয়ী হওয়ার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বিএনপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিনের মিত্রদের অবমূল্যায়ন করলে তা ভোটের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পুরনো শরিকদের উপেক্ষা করলে বিএনপিবিরোধী বৃহত্তর জোট গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যালটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।