রাজনীতি

পেশায় গৃহিণী সানজিদা ইসলাম তুলি, সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

পেশায় গৃহিণী সানজিদা ইসলাম তুলি, সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা
সানজিদা ইসলাম তুলি। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাকে’-এর সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি পেশায় একজন গৃহিণী। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত সোমবার তিনি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

হলফনামা অনুযায়ী, সানজিদা ইসলাম তুলির শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি (টেক্সটাইল)। বর্তমানে নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করলেও অতীতে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৯৫ (এ) ধারায় একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-এর তদন্তাধীন।

হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্যে দেখা যায়, তাঁর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি গাড়ি রয়েছে। কোনো কৃষিজমির মালিক নন তিনি। সঞ্চয়পত্র থেকে বার্ষিক আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা। তাঁর নিজের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৮৩ লাখ ৩১ হাজার ৬৬২ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ২০ লাখ ৫৪৭ টাকা।

নির্ভরশীল হিসেবে তাঁর স্বামীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা। স্বামীর কাছে নগদ রয়েছে এক কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪১ টাকা। এ ছাড়া উপহার হিসেবে পাওয়া নিজের ১০ ভরি এবং স্বামীর ১০ ভরি স্বর্ণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৮৮ হাজার ৫৭৫ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা। তাঁর কোনো ব্যাংক ঋণ বা দায় নেই।

অন্যদিকে, একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বার অ্যাট ল এবং পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।

আইন পেশা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় আনুমানিক ১১ লাখ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৮৯ লাখ ৮৪ হাজার ৮৮৫ টাকা ৫৪ পয়সা। তাঁর কোনো বাড়ি বা কৃষি ও অকৃষি জমি নেই, তবে একটি গাড়ি রয়েছে।

হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর নিজের ২০ ভরি এবং স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তাঁর হাতে নগদ অর্থ আছে এক কোটি ১৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর হাতে নগদ রয়েছে ১৪ লাখ টাকা। তিনটি ব্যাংকে তাঁর নামে জমা রয়েছে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ১৬৬ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা আছে এক লাখ ২০ হাজার ৮৫৬ টাকা।

এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র বা ফিক্সড ডিপোজিটে তাঁর জমা রয়েছে সাত লাখ ১৪ হাজার ৬৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার টাকার বেশি। তাঁরও কোনো ব্যাংক ঋণ বা আর্থিক দায় নেই।