রাজনীতি

লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎ মন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎ মন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ছাড়া সরকারের তেমন কিছু করার নেই।
 
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর থেকেই চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের সূত্রপাত। সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এফএসআরইউ মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। এই ক্রাইসিসের সময়ে আসলে এখন আমার কিছু করার নেই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না। আবার এফএসআরইউ ছাড়া আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারব না।’

বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে হঠাৎ গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো সম্ভব নয়। একইভাবে এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত আমদানি করা এলএনজি খালাস করে জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদেশি প্রকৌশলীরা টার্মিনালটির মেরামত শেষ না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন শুধু দিন গোনা ছাড়া আর কিছু করার নেই। এফএসআরইউতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। পাশাপাশি লোডশেডিং যাতে কম হয়, সে জন্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। শিল্প খাতে যতটা সম্ভব গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাও এই ব্যবস্থাপনার অংশ।’

এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখতে হতে পারে। এতে সাময়িকভাবে দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট কমাতে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহের জন্য একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কনটেইনারের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের সুবিধা চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।

তেলের সরবরাহ নিয়েও বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোর কারণে সংকট আরও বাড়ে বলে মন্তব্য করেন জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একচেটিয়া তেলের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যাতে তেল আমদানি করতে পারে, সে জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পাঁচ বছরের করছাড় সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।